মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৫

মেয়েটি ফরসা ছিল, ভিন্ন, অম্বা নামক অবৈধতা

একটা গহ্বর বরাবর সর্পিল ভাবে ঢুকে গ্যালো অম্বা। এখানে কিলবিলিয়ে উঠছে শীতকালীন মেদ।মেদের গায়ে জমে ওঠে সোয়েটার ভ্রূণ
পরবের মত
আর খানিক জীয়ল মাছেদের সাথে খেলা করে আশকারা ফিশিং বোল
ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলে গ্যাছে গতকালীন নিদ্রাগুলো
  অম্বা গহ্বর ঘিরে চূড়ান্তবাদ জারি করে
এখন প্রসবকাল আসার অপেক্ষা
এর আগে বাকিটা সূর্য ব্যতীত
অম্বা গুটিসুটি দিয়ে বসে
        হাঁটু মুড়তে পারেনা, যেহেতু পোয়তির জঠর অভিকর্ষ জানেনা।
অম্বা বরাবরই ধৈর্যহীনা
তাই প্রসবকালকে যোনীমুখেই সীমিত রাখতে চায়না
গুহার প্রসাধনী আয়নার দিকে তাকায়
সামনে আরেক পোয়াতি নারী হাঁটু মুড়ে বসে আছে, দারুন আরামে,
অম্বা পুনরায় নিজের দিকে তাকায়
সারা গুহায় প্লাসেন্টা গড়িয়ে পড়েছে তার,
যোনিমুখ থেকে আসন্ন জন্মের ডাক ধাক্কা দিচ্ছে গহ্বর পাঁচিলে
অম্বা দ্যাখে আয়নার পোয়াতি হাসছে খুব
হেসে হেসে কখনও বা গড়িয়ে পড়ছে জল রক্তের থৈথৈ মেঝেতে
অম্বার হিংসক যন্ত্রণা বাড়ে
সে গুহার আশপাঁশে ছড়ানো ছিটানো পাথরের টুকরো গুলো ছুঁড়ে মারতে  আয়নায়
আয়না ভেঙে যায়
অম্বার কঠিন ব্যথার স্রোতে জোয়ার আসে
এখন সব পরিশ্রমই বহতা
দুই হাতের মুঠোভরতি ক’রে অম্বা ছিঁড়ে ফ্যালে যাবতীয় গুহাময় ফার্ন।
চরম নিনাদে তখন ভেঙে পড়ছে আশু প্রসূতিগৃহ রূপী গুহামুখ

ঈশ্বর এতক্ষণ প্রাইম স্লটের এই অনুষ্ঠান দেখে
খানিক হাই তোলে
সোফা থেকে নামে
প্যান্ট খোলে
আলনা থেকে লুঙ্গী নামায়
জানলার ধারে যায়
নীচে তাকায়
একদম নীচে
বেশ কয়েক হাত নীচেই গোলাকার পৃথিবীটা পড়ে আছে
  জানলা থেকে সরে এসে ফ্রিজ খোলে
পানীয় ঢালে, দুটো বরফ সহকারে
পুনরায় সোফা গ্রহণ করে

সদ্য জন্মানো অম্বার জাতক কাঁদছেনা
অম্বা হাতে পড়া চুড়িটা খোলে
গুহার পাথর দিয়ে ভেঙে দু টুকরো করে
বাচ্চার সাথে শেষতম দৈহিক সংযোগ রক্ষাকারী নাড়ী টা কয়েক পোঁচে কেটে ফ্যালে
তারপর
বাচ্চাটাকে কোলে ন্যায়
এদিক ওদিক নাড়ায়
পাছার দিকে দুটো চড় মারে
  বাচ্চাটা কেঁদে ওঠে

    কাঁদতে কাঁদতেই তাকায় অম্বার দিকে
জাতকের চোখের রঙ নীল
দেহটা খানিক সাদাটে সবুজ
অম্বা হাসে
ভাঙা আয়নার দিকে তাকায়
কিছুটা এগোয়
নিজের জামার উপরের অংশটা হাত দিয়ে একটানে ছিঁড়ে ফ্যালে
স্তনের থেকে হলুদ রস নিয়ে ঢেলে দ্যায় জাতকের মুখে
উদ্বোধিত হয় আরেক জিহ্বা
জাতক হাসে,  এবং য্যানো প্রথম স্বাদের উল্লাস জানায়
অম্বা শেষ বারের মত দেখে ন্যায় জাতককে
ভাঙা আয়নার ওপারে
একটা বিশাল কালো গহ্বর
জাতককে এগিয়ে দ্যায় সেদিকে

ঈশ্বর গ্লাসের শেষটুকু গিলে ফ্যালে এক চুমুকে
সোফা থেকে নামে
এবং অতি সন্তর্পণে টিভিসেটের মনিটরের ভিতর হাত গলিয়ে দ্যায়

দুইহাত জুড়ে বেরিয়ে আসে ফুটফুটে অল্প রক্তরস মাখানো
ঝুলতে থাকা সদ্য কাটা নাড়ী সমেত
ঈশ্বরের সন্তান

ঈশ্বর সুযোগ নষ্ট করেনা
জাতকের ঠোঁটের পাশ দিয়ে লেগে থাকা দুফোঁটা হলুদ দুধ টুকু চেটে ন্যায় নিমেষে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন