মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৫

মেয়েটি ফরসা ছিল, ভিন্ন, অম্বা নামক অবৈধতা

একটা গহ্বর বরাবর সর্পিল ভাবে ঢুকে গ্যালো অম্বা। এখানে কিলবিলিয়ে উঠছে শীতকালীন মেদ।মেদের গায়ে জমে ওঠে সোয়েটার ভ্রূণ
পরবের মত
আর খানিক জীয়ল মাছেদের সাথে খেলা করে আশকারা ফিশিং বোল
ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলে গ্যাছে গতকালীন নিদ্রাগুলো
  অম্বা গহ্বর ঘিরে চূড়ান্তবাদ জারি করে
এখন প্রসবকাল আসার অপেক্ষা
এর আগে বাকিটা সূর্য ব্যতীত
অম্বা গুটিসুটি দিয়ে বসে
        হাঁটু মুড়তে পারেনা, যেহেতু পোয়তির জঠর অভিকর্ষ জানেনা।
অম্বা বরাবরই ধৈর্যহীনা
তাই প্রসবকালকে যোনীমুখেই সীমিত রাখতে চায়না
গুহার প্রসাধনী আয়নার দিকে তাকায়
সামনে আরেক পোয়াতি নারী হাঁটু মুড়ে বসে আছে, দারুন আরামে,
অম্বা পুনরায় নিজের দিকে তাকায়
সারা গুহায় প্লাসেন্টা গড়িয়ে পড়েছে তার,
যোনিমুখ থেকে আসন্ন জন্মের ডাক ধাক্কা দিচ্ছে গহ্বর পাঁচিলে
অম্বা দ্যাখে আয়নার পোয়াতি হাসছে খুব
হেসে হেসে কখনও বা গড়িয়ে পড়ছে জল রক্তের থৈথৈ মেঝেতে
অম্বার হিংসক যন্ত্রণা বাড়ে
সে গুহার আশপাঁশে ছড়ানো ছিটানো পাথরের টুকরো গুলো ছুঁড়ে মারতে  আয়নায়
আয়না ভেঙে যায়
অম্বার কঠিন ব্যথার স্রোতে জোয়ার আসে
এখন সব পরিশ্রমই বহতা
দুই হাতের মুঠোভরতি ক’রে অম্বা ছিঁড়ে ফ্যালে যাবতীয় গুহাময় ফার্ন।
চরম নিনাদে তখন ভেঙে পড়ছে আশু প্রসূতিগৃহ রূপী গুহামুখ

ঈশ্বর এতক্ষণ প্রাইম স্লটের এই অনুষ্ঠান দেখে
খানিক হাই তোলে
সোফা থেকে নামে
প্যান্ট খোলে
আলনা থেকে লুঙ্গী নামায়
জানলার ধারে যায়
নীচে তাকায়
একদম নীচে
বেশ কয়েক হাত নীচেই গোলাকার পৃথিবীটা পড়ে আছে
  জানলা থেকে সরে এসে ফ্রিজ খোলে
পানীয় ঢালে, দুটো বরফ সহকারে
পুনরায় সোফা গ্রহণ করে

সদ্য জন্মানো অম্বার জাতক কাঁদছেনা
অম্বা হাতে পড়া চুড়িটা খোলে
গুহার পাথর দিয়ে ভেঙে দু টুকরো করে
বাচ্চার সাথে শেষতম দৈহিক সংযোগ রক্ষাকারী নাড়ী টা কয়েক পোঁচে কেটে ফ্যালে
তারপর
বাচ্চাটাকে কোলে ন্যায়
এদিক ওদিক নাড়ায়
পাছার দিকে দুটো চড় মারে
  বাচ্চাটা কেঁদে ওঠে

    কাঁদতে কাঁদতেই তাকায় অম্বার দিকে
জাতকের চোখের রঙ নীল
দেহটা খানিক সাদাটে সবুজ
অম্বা হাসে
ভাঙা আয়নার দিকে তাকায়
কিছুটা এগোয়
নিজের জামার উপরের অংশটা হাত দিয়ে একটানে ছিঁড়ে ফ্যালে
স্তনের থেকে হলুদ রস নিয়ে ঢেলে দ্যায় জাতকের মুখে
উদ্বোধিত হয় আরেক জিহ্বা
জাতক হাসে,  এবং য্যানো প্রথম স্বাদের উল্লাস জানায়
অম্বা শেষ বারের মত দেখে ন্যায় জাতককে
ভাঙা আয়নার ওপারে
একটা বিশাল কালো গহ্বর
জাতককে এগিয়ে দ্যায় সেদিকে

ঈশ্বর গ্লাসের শেষটুকু গিলে ফ্যালে এক চুমুকে
সোফা থেকে নামে
এবং অতি সন্তর্পণে টিভিসেটের মনিটরের ভিতর হাত গলিয়ে দ্যায়

দুইহাত জুড়ে বেরিয়ে আসে ফুটফুটে অল্প রক্তরস মাখানো
ঝুলতে থাকা সদ্য কাটা নাড়ী সমেত
ঈশ্বরের সন্তান

ঈশ্বর সুযোগ নষ্ট করেনা
জাতকের ঠোঁটের পাশ দিয়ে লেগে থাকা দুফোঁটা হলুদ দুধ টুকু চেটে ন্যায় নিমেষে

মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৫

মেয়েটি ফরসা ছিল ৫

মেয়েটি ফরসা ছিল ৫

রাস্তাধরা জানকারি গুলো সামলে মেয়েটা প্রশ্রয় আয়েশ করে।সে জানে, একহারা ন্যাকাপনার মাধ্যমে করা আতিশয্যে ঈশ্বর কেবল তাকেই জপছেন।….., মেয়েটির দখলনামা হাসিল ক’রতে ক’রতে যে পরিমাণ পরিশ্রম হয়েছে,সেই কারণেই এখন সে ঘুমতে চায়।

     সে নিজের ইচ্ছেয় ঘুমনোর পর পরিচালক আপাতত চিত্রণ অভিমুখের পরিবর্তন ঘটায়

   এবং ঈশ্বর যেহেতু পপকর্ন খেতে ব্যস্ত নয়

   সেহেতু-

ফরসা মেয়েটিকে ছেড়ে মাটিতে ফিরে আসা হল। এখানে প্ল্যাটফর্ম জুড়ে অসীম ল্যাম্পপোস্ট আর ননস্টপ আপট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট চলছে।

চেকার বারবার ও পুনর্বার টিকিট নিরীক্ষা ক’রতে থাকে। একটি মেয়ে তার টিকিটটি দ্যাখায়, এবং বলে এটি গতকালের টিকিট, যেহেতু গতকাল চেকার নিরীক্ষা করেনি- তাই আজ এই টিকিটটিই দেখতে হবে।

   দুইদিনব্যাপী অনিদ্রিত চেকারের মাথাময় ঘুমের জটলা।সে অতকিছুর বিরুদ্ধে যুক্তি খাটাতে চায়না এবং ছেড়ে দ্যায় মেয়েটিকে।

   মেয়েটি গন্তব্যেই দাঁড়িয়ে আছে-

   তাই তাড়া নেই ওর।

ও কিছু ভাবে

প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন সিমেন্টের বেদিতে বসে।  ঘুমে ঢুলতে থাকে, এবং কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারে, ব্যপারটা অর্থহীন ও অবিরাম অ্যানাউন্সমেন্ট তাকে ঘুমতে দেবেনা।

সে ওঠে আর বাড়ির দিকে এগোয়।


ঈশ্বর আনন্দ পায়।মনে পড়ে এই মেয়েটিকে সে ফিরে আসবে ব’লে ছিল। এবং উৎসব থেমে গ্যাছে

ফরসা মেয়েটি এখনও ঘুমন্ত তাই সে মাটিতে নামতেই পারে।

ঈশ্বর মাটির মেয়ের বাড়ির কড়া নাড়ায়।

এবং বলে, দরজা খুলতে।

মেয়েটি সবে মাত্র ফিরেছে, এবং ফোঁটা দুই মধুর সাথে সাত-আট চিমটে খানেক তামাক মেশাচ্ছে।

তার সামনে বর্তমানে বহু আকাঙ্ক্ষিত আলোর পুরুষ ব’সে। এবং তার একহাতে জিয়নকাঠি ও অন্যহাতে  ধূমকেতু।

আলোর পুরুষ ফিসফিস ক’রে মেয়েটির কানে বলে “ভুস…”

মেয়েটি আচ্ছন্নতা সহ কড়া নাড়ার আওয়াজে কিঞ্চিৎকর বিরক্ত হয়।

হাঁক দ্যায়...কে?’

ঈশ্বর অবাক হয়, তার অনুমান ছিল, কড়া নাড়ার আওয়াজ মাটির মেয়ের কাছে য্যানো কেবলই ঈশ্বরীয় সংকেত।

এই অপরিচয়জনক প্রতিবার্তা তাকে মোটেও ভবিষ্যতের জন্য আশ্বস্ত করেনা।

বন্ধ দরজার এপারে দাঁড়িয়েই সে আধিদৈবিক ছুমন্তরে  বক্তব্য শুরু করে।

তাহলে...কি ফিরে যাবে?

জায়গাটি কি তবে এখন ফরসা বর্জিত?

না

দেখুন ঈশ্বর…
আপনার কাছে তিনটি দরজা অলরেডি মুক্ত...এক আপনি অমরাবতী ফিরে যান- দুই দরজা ভেঙে এই ঘরে ঢুকে পড়ুন
আর তিন
খোলা মাঠে তাঁবু ফেলে দিন

ঈশ্বর যারপরনাই অবাক হয় এই আচমকা উদ্ধতভাব দেখে।

সে দরজার কড়াটা আরো তীব্র ভাবে নাড়ায়, ব্যস্ততা ও অসহায়তার সাথে

মাটির মেয়ে পুনরায় বলে, সে কি এবার ফরসা মেয়ে বর্জিত হ’তে পারবে?

ঈশ্বর একবার উলটে দেখে ন্যায় তার দাঁত আর মাড়ির মাঝের আবেগকেন্দ্রিকতাকে।

বিভিন্ন শীতলায়নের মাধ্যমে বুঝিয়ে দ্যায়, ঈশ্বর আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই- বা আদত সে সিদ্ধান্ত নিতে ইচ্ছুক নয়

আবার তার মাটি ও আকাশ দুইই দরকার -যদিও সে একই সাথে মাঠে দৌড়ে ও উড়ে বেড়াতে রাজী নয়

ঈশ্বর মাটির মেয়েকে শেষবারের মত পারিজাতের লোভ দ্যাখায়...ও মরিয়াগিরি আরম্ভ ক’রে

মেয়েটি এদিকে শান্ত-
তার চোখ আলোর পুরুষের দিকে স্থির
যদিও সে জানে আলোর পুরুষ মুহূর্ত ও মেয়ের অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন- তাই সময় নষ্ট ক’রছেনা।

আলোর পুরুষের কাছে কিছুই ফরসা ও মাটি নয়
তাই পুরুষ আলগা হাতে জাপটে ধ’রে মেয়েকে। হাতের মধ্যে জিয়নকাঠির সাথে মেয়েটির স্তনাবরণকে ঝুলিয়ে ন্যায়

দরজার ওইপ্রান্ত থেকে ঈশ্বর বলে “আমি কোনোদিন কিছুতে তোমায় বাধা দিয়েছি?”
মাটির মেয়ের বিড়বিড়ে- “ক্যানো বাধা দাওনি”
যদিও তা দরজার ওপার অবধি যায়না

আলোর পুরুষ মেয়েটির ঠোঁট কামড়ে ধরে- মেয়েটি কথা বলার অবস্থায় নেই আর
পুরুষ দুইহাতের তালু দিয়ে মেয়ের দুই কান চেপে ধরে।ওর কানে এখন মেঘকরা গুমগুম ছাড়া আর কোনো ঐশ্বরিক আওয়াজ নেই।

ঈশ্বর অনেক হাঁকডাকের পর বুঝতে পারে- তার বাটির পপকর্ন ফুরিয়ে গ্যাছে

আলোর পুরুষ বুঝতে পারে-মেয়েটি আপাতত শুধু ওর চুমুই গিলছে

ছেলেটি ঘুমিয়ে পড়ে। তার কোনো মেয়েটিকে লাভ করার প্রয়াস বাকি নেই

মেয়েটি হতভম্ব
কারণ, ঈশ্বর আরো পপকর্ন আনতে রান্নাঘরে গ্যাছে
এবং
মর্ত্যে অম্বুবাচী’র সপ্তাহ এখন

মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৫

শমনীয় হোক ২

কিছু কিছু সকালে সে হাঁটতে বেরতো
শুঁয়োপোকার মত পথময় উঠে উঠে থাকতো 
নারকোলের মুচি গুলো


সে বারবার মুচি গুলো কুড়িয়ে
খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দেখতো
আসন্ন অতীতের মত কোনো জল জন্মেছে কিনা      

চোখ বন্ধ করে
একমনে
প্রতিদুপুরে বাড়ির সামনের গলি দিয়ে
চলে যাওয়া ডাবওয়ালাটার কথা ভাবতো


কখনই সে আশাহত হয়নি যদিও


তবু বারবার মকরন্দ মধু অবধি যায়
পাপড়ি গুলো একা পড়ে থাকে 
ঝরে যাওয়া পর্যন্ত

সে রোজ চোখ বন্ধ করে 
নারকোলের মুচি খুঁচিয়ে
ডাবের জল বের করার চেষ্টা করত
যতক্ষণ না,কোনো হলুদ হেডলাইটের গাড়ি
তাকে পথের মাঝখানে পিষে দিয়ে চলে যাচ্ছে

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৫

শমনীয় হোক

জুতসই পরাবাস্তবকে একই ছাঁচে ঢেলে
মাটি দীর্ঘ অবসর নেবে ভাবে
এই তো সঠিক সময় - ইহাতেই যাবতীয় দোনোমনা ও হাহাহিহি বিগলিতা নিয়ে কেটে পড়ে হুস করে।

এইভাবেই বাকি অধিকতর পরাজয় বিরাগী হয়ে
          চোখ খোলে
নাম- পদবী-রাইগার মরটিস

কৃত

জাহ্নবী, কারণ তাহাকে এক চুমুকে পান করা হয়েছিল
সুতরাং
তদবিরকে ন্যস্ত করা হল এবং জড়োয়া জাতীয় আচ্ছন্নতাকে স্বয়ংজাত মনোনিবেশে শ্রান্তি দেওয়া হল।
    
      সেহেতু, জানুযুক্ত সকল ঋষিই বর্তমানতা অনুসারে অপবাদক

এবং এই মুহূর্ত যারপরনাই স্থিত
কারণ বিছানায় ঘিয়ে রঙের ব্রেসিয়ার পড়ে আছে
আর
বারবার  বন্ধ দরজার ওপারের থেকে চিৎকার আসছে
“এবার খোল, দিদা ডাকছে রে”
    
প্রিয়তম হালকা ও তখনও বিহ্বলতা নিয়ে উচ্ছিষ্টের মত জামাকাপড়গুলির দিকে তাকায়,  ও সচকিত হয়ে উঠে পড়ে।
“পড়ে নাও”
অথর্বের মত চিরন্তনী পড়ে থাকে তখনই
নিমগ্নতাকে পয়গম্বর বানিয়ে ফেলে।
উদাসীন রূপে অ-নগ্নতাকে ঔদার্য জ্ঞান করে।
ও প্রিয়তমকে পোশাক সম্বলিত ক’রে দেওয়ার প্রস্তাব রাখে।
আদৌ চিরন্তনী অবাস্তব নয়। ও চিরন্তনীর যোনীমুখে প্রিয়তম’র নিবেশক তখনও কোহিনূরজনক লোভ দ্যাখাইনি

প্রিয়তম মোটেও খুশি হয়না,  তাই সে প্রিয়তা ছেড়ে হজমোলা জাতীয় উদ্ধারকর্তার মত আশ্বাস দ্যায়।
ও পোশাকমুখী হয়ে ওঠে।
চিরন্তনী লাস্যময়তা ছেড়ে ঘাম মোছে।
প্যান্টের চেন আটকাতে আটকাতে দুর্দান্ত অতৃপ্তিতে হজমোলার দিকে ফিরেও তাকায়না।
হজমোলা দরজার শিকল খোলে
-কতক্ষণ ধরে এখানে ওয়েট করছি জানিস?
-ওহ… একটু জল খাওয়া,
 চল ঘরে চল।
-দিদা এসে পড়লে কি হত বলতো?
- তোর কাছে আর বিড়ি আছে?

চিরন্তনী শেষতম প্রস্তুতকর্তৃর মত করিডোর ঘুরে মূল ঘরে এসে পৌঁছয়
সেখানে হুহু করে ঠান্ডা নামছে
জানলা গুলো ভয়ংকর জোরে বন্ধ করা
ঘরের মাঝবরারবর একটা অতিশীতল হলদেটে ডুম-আলো।
চিরন্তনী প্রিয়তম ও বন্ধুর কাছ থেকে দূরে কোলবালিশে হ্যালানমগ্ন হয়ে থাকে।
উপযুক্ত ভাবে প্রিয়তমকে দীর্ঘক্ষণ আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে,
এবং বলে,
‘তুমি কি বাথরুমে যাবে…?’

যদিও তখন ঘরটিতে এসি চলছিল

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৫

শমনীয় হোক ১

এই যে অপরিমেয়তা
ইহাতেই যাবতীয় ক্ষেদ
ও পরিমাণ সহ
একঘেয়ে হীনযান বয়ে চলা
        যাকে বলে
শীঘ্রগামী
এবং পতন বিমুখ

তবুও বিনামূল্যে তাহারে কি
ক্ষির দেওয়া যায়?
ক্ষির দুগ্ধজাত
সুতরাং খাদ্যকে কাড়া ও বিবর্তিত

কাহাকে বিবর্তন বলবে?
সারমেয়ী হয়ে পড়ি
অভিমান সূচক

ও নিজেকে ঝুলিয়ে রাখার দায়ে

ঠিক যতটা সিলিং থেকে
মেঝে দ্যাখা যায়
ঘাড় কাত করে
জিভটা উলটে দিয়ে

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৫

মেয়েটি ফরসা ছিল ৪

যথারীতি চাঁদটাকে উলটে দেওয়া যাক বরং
   এবং শিরোধার্য করে দেওয়া হোক চামড়া প্রীতিকে।
উৎসবকে আচমকা বিনোদিয়া হস্তে আপনার ক'রে নেওয়া হল।ফলে ঈশ্বর এখন আপাতরমণীয়
                            ও তিনি ফরসা কাতর
যুক্তিসংগত ভাবেই তাই মেয়েটি উঠে দাঁড়ায়, হাত তোলে, লাফায় এবং বোঝে সে জিতে গ্যাছে।
মেয়েটির লিঙ্গ খিদে নেই। ঈশ্বরের কলজেকে চিরে চিরে; আলগা ফাঁক করে, তাতে নিজের রজঃস্রাব ঠুসে দ্যায় সে। দম্ভভারে হেসে ফ্যালে, কারন ইতোমধ্যে হেঁদো মেয়েটির কাছ থেকে সে যোনিজাত অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে।
ঈশ্বর হেঁদো মেয়েটিকে বোঝায়,  আপাতত উৎসবের মরশুম। এই মরশুমে ফরসা মেয়েটি ভাল থাকার দাবিদার। ফলত, এক্ষণে উৎসব ব্যতীত অন্য মোক্ষলাভের প্রচেষ্টা থাকা উচিত নয়।
হেঁদো মেয়েটি যদিও গৃহস্থ,  তমোগুণ ও রজোগুণ সম্পন্না। ঈশ্বরের অঙ্গপূজার মাধ্যমেই সে নিয়ন জ্যোতি লাভ করতে চায়।
ফরসা মেয়েটি তবুও তার হিংসার পাত্রী হয়না।
ঈশ্বর আশ্বাস দ্যায়, এ নিছকই ফরসা দেহকে সম্মাননা জ্ঞাপন ছাড়া কিছুই নয়।
ফরসা মেয়েটি জিতে যাওয়ার পর নিজেই একটি উত্তরীয় পরে ন্যায়।
কিয়ৎক্ষণ মাটিতে মাথা ঝুঁকিয়ে রাখে, য্যানো কিছু নির্বাচন করতে চাইছে। তারপর ঈশ্বরের দিকে তাকিয়ে বলে,
      আমি মিষ্টি খাইনা

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৫

মেয়েটি ফরসা ছিল ৩

মেয়েটির পরোটা
কিঞ্চিৎ বাস্তবের মত
তাহার মুখ বরাবর নির্ভয়ে গলে যায়
যতটা বিনম্র চিত্তে উরু পড়ে থাকে শূন্য জ্ঞানে
         নতুন বিলাস জাতীয় মুগ্ধকরণে নিরীক্ষণ চলে

এবং আপাতত মেয়েটির মুখে তৃপ্তি ঝুলে পড়েছে
খেয়ে ফ্যালা
ও বাদবাকি ঢেঁকুরের মাঝে ইঞ্চিখানেক প্রিয়তম সুখ

চূড়ান্ত পেখমধরা আজবগিরি ছেড়ে আমি যথারীতি উঠে পড়েছি। ও ঈশ্বরের কথা শুনে মেয়েটিকে দরবারে ডাকার আদেশ পাইলাম।  কিছুটা কাকুতি ও অহেতুকী সহ। গেলাম, এবং ফরসা মেয়েটি নস্যাতকরণ চালালো। এদিক ওদিক এফোঁড়ওফোঁড় করে দিয়ে অট্টহাসির মত করে বলল, আমি না গেলে কিইবা যায় আসে।
অথচ,  তার কিছুকাল পর নিজেই টের পেয়েছি, তার পরোটা নিজের মনিবের ছবি তৈরি করেছে আবহের মাধ্যমে।  হামাগুঁড়ি দিয়ে হেঁটে গ্যাছে পাকস্থলীকৃত হতে।

অস্বাভাবিক ভাবেই হোক, আমি এখানে অনাদরের পাচক মাত্র

মেয়েটি ফরসা ছিল ২

কেউ তাকে দ্যাখেনি কখনও
যদিও দেখলে বিপর্যয় খুবই সামান্য হবে
তবুও
চোখে সবার তৈয়ারি সানগ্লাস
বাদুর প্রমাণ রোদ থেকে বাঁচার জন্য,
সে রোদের মধ্যে দৃশ্যমান হলেও
আপাতত মাতৃগর্ভ তাকে শয্যা ত্যাগ
              করার নির্দেশ দ্যায়নি
সবাই চোখে সানগ্লাস,  হেলমেট ও বুটজুতো পরে হেঁটে চলে যায়
নিরাপদ
স্বাভাবিক মতো
বানানভিত্তিক
এবং
সাদা মোজা সহ ধোপদুরস্ত হয়ে
        যদিও-
না দ্যাখা- শয্যাগত ব্যক্তিটি
মাদারচোদ নয়

মেয়েটি ফরসা ছিল ১

পার্থিব আসক্তিতে গত কিছু শৈশব যাবৎ ফুটবল খেলেছি। এক পায়ে বল,  চোখ কাটাচ্ছে বাধাগুলো। এই ধরুন, তিনি ও তারা পাশাপাশি বসে আছে। আবার ধরুন, তিনি এখানে অমাতৃক ও তারা সবাই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ। এবার ছড়িয়ে ফ্যালা যেতেই পারে। প্রিয়তমা খোলস থেকে আশু ভ্যাম্পরূপী সন্দেহকারী বা গঙ্গার ঘাটের চোলাই এর পাউচ।সবই অহেতুক কলাপ্স করা নয়, রিজিড থাকা নয়। প্রবাহমানতাই একমাত্র লক্ষ্য।এবং আপনি কোনো মতেই দিকভ্রষ্ট হচ্ছেন না এই অমাতৃক আর প্রসূতিবিভাগের ভিতর। কারণ,  এখন তারা একসাথে বসে থাকলেও হতেই পারে তাদের বিচ্ছেদ পরবর্তী আবার দ্যাখা হবে কোনো সদ্যজাত শিশুর নিমিত্ত হয়ে। এই দেখুন, আপনার অলক্ষ্যেই তাদের পুনর্বার দ্যাখা করানোর আগে যে আপাতত তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে তা নির্দেশিত হল।
      অমানুষিক সাহচর্য বিলাস ধর্তব্যের মধ্যে আদৌ কি পরে? চিরাচরিত অলক্ষ্যে কোনো যাপনের মধ্যে যে থিতিয়ে পড়া চলে- বিনোদন বিনোদিত হয় - যাপন ভেঙে ফ্যালার জন্য, যে ধূর বাল... আর ভাল লাগছে না বাড়া। উই শুড ক্লোজ ইট ইমিডিয়েটলি। কিন্তু প্রসূতিবিভাগ বিপন্ন, সদ্যজাত'র জন্ম ব্যতীত।  তার জন্য হাসপাতালে গর্ভবতীর আসা প্রয়োজন।  মানে শেষমেশ সদ্যজাতটি অমাতৃক হল না। যদিও এখানে অমাতৃক নামক তিনির এক্সিজটেন্স আছে।
     হঠাৎ করে অমাতৃক নিজে সন্তানসম্ভবা হয়, যদিও তা স্বাভাবিক ভবিষ্যৎই ছিল। তবুও অমাতৃক অবাক হয়। সে যে মাতৃক কাউকে পৃথিবীস্থ করতে চলছে,  তাহা বিশ্বাসের অতীত। ও এক বিশাল সাবধানতা সূচিত হয়। প্রসূতিবিভাগে সে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে আসে।
   জল ভাঙে ঘাট পাউচ পাউচের বাংলা প্রিয়তমা ভ্যাম্প,  যেহেতু প্রিয়তমার প্রিয়তম অন্য কারোর ঘরে।  
অমাতৃক ফুলের মত সরু চালের ভাত বাড়ে, কাঁসার থালায়
প্রসূতিগৃহ তৃপ্ত হয়
তারা রান্নাঘর থেকে খাওয়ার টেবিল অবধি পথ,
পৌঁছোবার